ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে যে কিছু লোক না পড়ে না জেনে আহলে হাদিস সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে থাকেন , তারা আহলে হাদিসের অনুসারীদেরকে ইংরেজদের দালাল বলে অথচ ইতিহাস কি বলে তা খেয়াল করে না এ জন্য সেই সকল লোকদের সবিনয় অনুরোধ করবো আপনারা জনাব আব্বাস আলী খান এর "বঙে মুসলিম জাতির ইতিহাস "বইটি পড়বেন বইটি পাবেন www.banglainternet.com সাইটে ।
আহলে হাদিসের উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নিন
পৃথিবীর
সবচেয়ে দূরদর্শি চিন্তানায়ক বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ সা. বলেছেন, ‘বানী
ইস্রায়েলরা ৭২ ফির্কায় বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মত ৭৩ ফির্কায় বিভক্ত হবে।
তন্মোধ্যে ৭২টা ফির্কা জাহান্নামে যাবে এবং একটি ফির্কা জান্নাতে প্রবেশ
করবে। ঐ জান্নাতি ফির্কা তারা যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের আদর্শে কায়েম
থাকবে’ (তিরমিযী, আবু দাউদ, আহমাদ, মিশকাত)।
বিশ্বের সমস্ত পীরের মাথার মণি আব্দুর কাদের জিলানী রহ. বলেন জাহান্নাম
থেকে নিজাত পাওয়া ঐ দলটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দল। যার একটি মাত্র
নাম আছে, তা হল আহলে হাদীস’ (গুনইয়াতুত ত্বলিবীন, করাচী ছাপা, ৩০৯ পৃষ্ঠা)।
রিজাল শাস্ত্রের অদ্বিতীয় মনীষী হাফেয যাহাবী রহ. বিখ্যাত তা’বেয়ী ইমাম
শা’বীর এক উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন- ‘ইমাম শা’বীর মতে রাসুল সা. এর সমস্ত
সাহাবাগন আহলে হাদিস ছিলেন’ (তাযকিরাতুল হুফফায, ১ম খন্ড, ১ম সংস্করন, ৭৭
পৃষ্ঠা ও দ্বিতীয় সংস্করনের ৮৩ পৃষ্ঠা)।
চার মাহহাবের অন্যতম বরেন্য নেতা ইমাম শাফিয়ি রহ. বলেন-‘আহলে হাদিসরা
প্রত্যেক যুগে সাহাবীদের ন্যায়। তাই আমি যখন কোন আহলে হাদিসকে দেখি তখন
রাসুলুল্লাহ সা. এর কোন সাহাবীকেই যেন দেখি’(মীযানে শা’রানী; ১ম খন্ড ৫০
পৃষ্ঠা)।
বিশ্বের সমস্ত মুজাহিদদের শিরমণি ও বিশ্বের অতুলনীয় প্রতিভা ইমাম
ত্যাইমিয়াহ রহ. বলেন-‘পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মধ্যে ইসলামের যে মান,
ইসলামপন্থীদের মধ্যে আহলে হাদিসদের সেই মান’ (মিনহাজুস সুন্নাহ; ২য় খন্ড
১৭৯ পৃষ্ঠা)।
মহামান্য ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন-‘ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বাল ও সুফয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আহলে হাদিস ছিলেন’(রিহলাতুশ শাফিয়ি ১৪ পৃষ্ঠা)।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস সুফয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বলেন-‘আমাকে আবু হানিফা রাহ.
আহলে হাদিস বানিয়েছেন’ (হাদায়িকুল হানফিয়াহ;১৩৪ পৃষ্ঠা)। অতএব যিনি অপরকে
আহলে হাদিস বানান সেই আবু হানিফা রহ. নিজে কি আহলে হাদিস ছিলেন না?
সুরা যুমারের ১৩ নং আয়াত ও সুরা আন নাজমের ৫৯ নং আয়াত, সুরা তুরের ৩৪
নং আয়াত সহ কুর’আনের মোট চৌদ্দটি আয়াতে কুর’আনকেই ‘হাদীস’ বলা হয়েছে। আর
হাদিশাস্ত্র বিশারদদের পরিভাষায় বিশ্বনাবীর কথা বার্তা এবং কাজ কর্ম ও মৌন
সমর্থনকে হাদিস বলা হয়। অতএব যারা কুর’আন ও হাদিস অনুসরন করে তারা
নিজেদেরকে আহলে হাদিস (কুর’আন ও হাদিস ওয়ালা) বলে পরিচয় দিলে ক্ষতি কি?
আহলেহাদীছ-এর পরিচয় :
পবিত্র কুরআন ও ছহীহ
হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারী ব্যক্তিকে ‘আহলেহাদীছ’ বলা হয়। যিনি
জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও
ছহীহ হাদীছের সিদ্ধান্তকে শর্তহীনভাবে মেনে নিবেন এবং
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে
কেরামের তরীকা অনুযায়ী নিজের
সার্বিক জীবন গড়ে তুলতে
সচেষ্ট হবেন, কেবলমাত্র তিনিই
এ নামে অভিহিত হবেন।
এটি ইসলামের আদিরূপ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন,
যা ছাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে এ
যাবৎ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিচালিত হয়ে
আসছে। উল্লেখ্য যে, আহলেহাদীছ হওয়ার
জন্য রক্ত, বর্ণ, ভাষা
ও অঞ্চল শর্ত নয়।
ছাহাবায়ে কেরাম হ’লেন
জামা‘আতে আহলেহাদীছের প্রথম
সারির সম্মানিত দল। যাঁরা এ
নামে অভিহিত হ’তেন।
যেমন প্রখ্যাত ছাহাবী আবু সাঈদ
খুদরী (রাঃ) কোন মুসলিম
যুবককে দেখলে খুশী হয়ে
বলতেন, রাসূল (ছাঃ)-এর
অছিয়ত অনুযায়ী আমি তোমাকে ‘মারহাবা’
জানাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে তোমাদের
জন্য মজলিস প্রশস্ত করার
ও তোমাদেরকে হাদীছ বুঝাবার নির্দেশ
দিয়ে গেছেন। কেননা তোমরাই
আমাদের পরবর্তী বংশধর ও পরবর্তী
আহলুল হাদীছ’।[1]
‘বড় পীর’ বলে খ্যাত
শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী
(মৃঃ ৫৬১ হিঃ) ‘নাজী’
ফের্কা হিসাবে আহলেসুন্নাত ওয়াল
জামা‘আতের বর্ণনা দেওয়ার
পর তাদের বিরুদ্ধে বিদ‘আতীদের ক্রোধ বর্ণনা
করতে গিয়ে বলেন, বিদ‘আতীদের নিদর্শন হ’ল আহলেহাদীছদের গালি
দেওয়া ও বিভিন্ন নামে
তাদের সম্বোধন করা। এগুলি সুন্নাতপন্থীদের
বিরুদ্ধে তাদের দলীয় বিদ্বেষ
ও অন্তর্জ্বালার বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন কিছুই নয়।
কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামা‘আতের অন্য কোন
নাম নেই একটি নাম
ব্যতীত। সেটি হ’ল
‘আছহাবুল হাদীছ’ বা আহলেহাদীছ।[2]
স্পেনের বিখ্যাত মনীষী হিজরী পঞ্চম
শতকের ইমাম ইবনু হযম
আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬ হিঃ)
বলেন, আহলেসুন্নাত ওয়াল জামা‘আত
যাদেরকে আমরা হকপন্থী ও
তাদের বিরোধীদের বাতিলপন্থী বলেছি, তারা হলেন,
(ক) ছাহাবায়ে কেরাম (খ) তাদের
অনুসারী শ্রেষ্ঠ তাবেঈগণ (গ) আহলেহাদীছগণ (ঘ)
ফক্বীহদের মধ্যে যাঁরা তাঁদের
অনুসারী হয়েছেন যুগে যুগে
আজকের দিন পর্যন্ত (ঙ)
এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল
‘আম জনসাধারণ, যারা তাঁদের অনুসারী
হয়েছে’।[3]
ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন,
মুসলমানদের মধ্যে আহলেহাদীছদের অবস্থান
এমন মর্যাদাপূর্ণ, যেমন সকল জাতির
মধ্যে মুসলমানদের অবস্থান’।[4]
ভারতগুরু শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী
(১১১৪-৭৬/১৭০৩-৬২খৃঃ)
বলেন, চতুর্থ শতাব্দী হিজরীর
পূর্বে কোন মুসলমান নির্দিষ্টভাবে
কোন একজন বিদ্বানের মাযহাবের
তাক্বলীদের উপর সংঘবদ্ধ ছিল
না’।[5] হাফেয
ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৯১-৭৫১হিঃ) বলেন,
মাযহাবী তাক্বলীদের এই বিদ‘আত
আবিষ্কৃত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ভাষায় নিন্দিত
৪র্থ শতাব্দী হিজরীতে[6] শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী
(রহঃ) বলেন, আববাসীয় খলীফা
হারূনুর রশীদের খেলাফতকালে (১৭০-৯৩/৭৮৬-৮০৯
খৃঃ) আবু হানীফা (রহঃ)-এর প্রধান শিষ্য
আবু ইউসুফ (রহঃ) প্রধান
বিচারপতি থাকার কারণে ইরাক,
খোরাসান, মধ্য তুর্কিস্তান প্রভৃতি
অঞ্চলে হানাফী মাযহাবের বিস্তৃতি
ঘটে’।[7] পরে
হানাফীরা শাফেঈদের বিরুদ্ধে মোঙ্গলবীর হালাকু খাঁকে ডেকে
আনলে ৬৫৬/১২৫৮ খৃষ্টাব্দে
বাগদাদের আববাসীয় খেলাফত ধ্বংস হয়ে
যায়।
এ সময়ের কিছু পূর্বে
গযনীর সুলতান মোহাম্মাদ ঘোরীর
তুর্কী গোলাম কুতুবুদ্দীন আইবক
ও ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজীর মাধ্যমে ৬০২
হিঃ/১২০৩ খৃষ্টাব্দে দিল্লী
হ’তে বাংলা পর্যন্ত
সামরিক বিজয় সাধিত হয়।
এঁরা ছিলেন নওমুসলিম তুর্কী
হানাফী। যাতে মিশ্রণ ঘটেছিল
তুর্কী, ঈরানী, আফগান, মোগল,
পাঠান এবং স্থানীয় হিন্দু
ও বৌদ্ধ আক্বীদা ও
রীতি-নীতি সহ অসংখ্য
ভারতীয় কুসংস্কার। ছাহাবা, তাবেঈন এবং আরব
বণিক ও মুহাদ্দিছগণের মাধ্যমে
ইতিপূর্বে প্রচারিত বিশুদ্ধ ইসলামের সাথে যার খুব
সামান্যই মিল ছিল’।
এ সময়কার অবস্থা বর্ণনা
করে খ্যাতনামা ভারতীয় হানাফী বিদ্বান
আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী (১৮৪৮-৮৬ খৃঃ) বলেন,
‘ফিক্বহ ব্যতীত লোকেরা কুরআন
ও হাদীছ থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিয়েছিল। ...আহলেহাদীছগণকে তারা জানত না।
কেউ কেউ ‘মিশকাত’ পড়লেও
তা পড়ত বরকত হাছিলের
জন্য, আমল করার জন্য
নয়। তাহকীকী তরীকায় নয়। বরং
তাকলীদী তরীকায় ফিক্বহের জ্ঞান
হাছিল করাই ছিল তাদের
লক্ষ্য’।[8]
সুলায়মান নাদভী (১৮৮৪-১৯৫৩)
বলেন, ‘তুর্কী বিজয়ী যারা
ভারতে এসেছিলেন, দু’চারজন সেনা
অফিসার ও কর্মকর্তা বাদে
তাদের কেউই না ইসলামের
প্রতিনিধি ছিলেন, না তাদের
শাসন ইসলামী নীতির উপর
পরিচালিত ছিল। এরা ছিলেন
আরব বিজয়ীদের থেকে অনেক দূরে’।[9]
তাই বলা চলে যে,
মধ্য এশিয়া থেকে উত্তর
ভারত হয়ে তুর্কী-ঈরানী
সাধক-দরবেশদের মাধ্যমে ও রাজশক্তির ছত্রছায়ায়
পরবর্তীতে বাংলাদেশে যে ইসলাম প্রচারিত
হয়, তা ইতিপূর্বে আরব
বণিক ও মুহাদ্দিছ ওলামায়ে
দ্বীনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আগত প্রাথমিক যুগের
মূল আরবীয় ইসলাম হ’তে বহুলাংশে পৃথক
ছিল। ফলে হানাফী শাসক
ও নবাগত মরমী ছূফীদের
প্রভাবে বাংলাদেশের মুসলমানেরা ক্রমে হানাফী ও
পীরপন্থী হয়ে পড়ে। তারা
বহুবিধ কুসংস্কার এবং শিরক ও
বিদ‘আতে অভ্যস্ত হয়ে
পড়ে। এভাবে এদেশের মূল
শরীয়তী ইসলাম পরবর্তীতে লৌকিক
ইসলামে পরিণত হয়। যার
ফলশ্রুতিতে ঘোড়াপীর, তেনাপীর, ঢেলাপীর প্রভৃতি অসংখ্য ভুয়া পীর
বাংলার মুসলমানের পূজা পায়।[10]
শাহ অলিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেন, হানাফী
মাযহাবের ক্বিয়াসী ফৎওয়া সমূহ এবং
ফিক্বহ ও উছূলে ফিক্বহের
নামে যেসব মাসআলা-মাসায়েল
ও আইনসূত্র সমূহ লিখিত হয়েছে,
সেগুলিকে ইমাম আবু হানীফা
ও তাঁর দুই শিষ্যের
দিকে সম্বন্ধিত করার ব্যাপারে একটি
বর্ণনাও বিশুদ্ধ নয়’।[11] তিনি
‘আহলুল হাদীছ ও আহলুর
রায়-এর পার্থক্য’ শিরোনামে
তাঁর জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ্র
মধ্যে (১/১৪৭-৫২)
আহলেহাদীছ বিদ্বানগণের দলীল গ্রহণের নীতিমালা
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি
মযহাবপন্থী মুক্বাল্লিদগণের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ
করে বলেন, ‘তারা মনে
করে যে, একটি মাসআলাতেও
যদি তাদের অনুসরণীয় বিদ্বানের
তাক্বলীদ হতে সে বেরিয়ে
আসে, তাহলে হয়তবা সে
মুসলিম মিল্লাত থেকেই খারিজ হয়ে
যাবে। ঐ বিদ্বান যেন
একজন নবী, যাকে তার
কাছে প্রেরণ করা হয়েছে’।[12]
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি
ছালাতে রাফ‘উল ইয়াদায়েন
করে, ঐ ব্যক্তি আমার
নিকট অধিক প্রিয় ঐ
ব্যক্তির চাইতে, যে ব্যক্তি
রাফ‘উল ইয়াদায়েন করে
না। কেননা রাফ‘উল
ইয়াদায়েনের হাদীছ সংখ্যায় অধিক
এবং অধিকতর মযবুত’।[13]
হানাফী ও শাফেঈ মাযহাবের
বিশ্বস্ত ফিক্বহ গ্রন্থ হেদায়া,
আল-ওয়াজীয প্রভৃতির অমার্জনীয়
হাদীছবিরোধিতা সম্পর্কে আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী
বলেন, এগুলি মওযূ বা
জাল হাদীছ দ্বারা পরিপূর্ণ।[14]
ইমাম ইবনু দাক্বীকুল ঈদ
(মৃ: ৭০২ হিঃ) চার
মাযহাবে প্রচলিত ছহীহ হাদীছ বিরোধী
ফৎওয়াসমূহের একটি বিরাট সংকলন
তৈরী করেছিলেন। যার ভূমিকাতে তিনি
ঘোষণা করেছেন যে, এই
মাসআলাগুলিকে চার ইমামের দিকে
সম্বন্ধ করা ‘হারাম’।[15]
কারণ চার ইমামের প্রত্যেকে
‘আহলেহাদীছ’ ছিলেন এবং তারা
প্রত্যেকে বলে গেছেন, যখন
তোমরা ছহীহ হাদীছ পাবে,
জেনে রেখ সেটাই আমাদের
মাযহাব’।[16] আহলেহাদীছগণ তাঁদের
সেকথাই মেনে চলেন এবং
তাদের সার্বিক জীবন পবিত্র কুরআন
ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী
গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সুমতি দিন। আমীন!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন